চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য: অতিষ্ঠ জনজীবন, বেপরোয়া নতুন সিন্ডিকেট!
এস এম জামান, ক্রাইম জনতা //
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কিংবা প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও থামছে না চাঁদাবাজি। বরং অনেক ক্ষেত্রে পুরনো সিন্ডিকেটের জায়গায় নতুন নতুন গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।
যেসব খাতে চাঁদাবাজির দাপট সবচেয়ে বেশি:
পরিবহন খাত: বাস টার্মিনাল ও অটো স্ট্যান্ডগুলোতে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চালকদের অভিযোগ, ট্রিপ প্রতি নির্দিষ্ট অংকের টাকা না দিলে তাদের গাড়ি রাস্তায় নামতে দেওয়া হচ্ছে না।
ফুটপাত ও কাঁচাবাজার: রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বড় বড় পাইকারি বাজারে ব্যবসায়ীদের পণ্য নামাতে ও বিক্রি করতে ধাপে ধাপে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের দামের ওপর।
নির্মাণ কাজ: বাড়ি নির্মাণ করতে গেলেই স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে মোটা অংকের 'ডোনেশন' দাবি করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী: অনলাইন বা অফলাইন—সব জায়গাতেই নতুন উদ্যোক্তাদের নানা অজুহাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য ও বাস্তবতা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযানে বেশ কিছু চাঁদাবাজকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, গ্রেফতারের কিছুদিন পর তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার একই কর্মকাণ্ড শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই লাগামহীন চাঁদাবাজির কারণে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। যদি দ্রুত এই সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দেওয়া না যায়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা একজন কর্মীর ভাষ্য: "চাঁদাবাজি শুধু অপরাধ নয়, এটি সাধারণ মানুষের পকেট কাটার একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। প্রতিটি কেজি সবজি বা ফলের পেছনে যে বাড়তি টাকা আমরা দেই, তার একটি বড় অংশ চলে যায় এই সিন্ডিকেটের পকেটে।"
জনগণের দাবি: কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রতিটি এলাকায় কঠোর নজরদারি এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক।
রাজধানীতে ভয়াবহ আকারে বাড়ছে অজ্ঞাত লাশ!