বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা: সংকট ও উত্তরণের পথ
সৈকত মনি, ক্রাইম জনতা //
বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো একটি গভীর সামাজিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে প্রতিনিয়ত এই ধরণের ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়, যা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও শিশুদের নিরাপত্তার ওপর বড় ধরণের প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দেয়।
১. পরিস্থিতির ভয়াবহতা
দেশের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে জানা যায়, বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে শিশু ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে;
বিচ্ছিন্নতা: অনেক ক্ষেত্রে নিজ পরিচিত বা আত্মীয়দের হাতেই শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি: মামলার দীর্ঘসূত্রিতা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া অপরাধীদের উৎসাহিত করে।
সামাজিক ট্যাবু: সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেক পরিবার ঘটনাগুলো প্রকাশ করতে চায় না, যার ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।
২. বিশ্ব প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের অবস্থান
যদিও বিশ্ব মানচিত্রে শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয় এবং এটি দেশভেদে সংজ্ঞায়ন ও রিপোর্টিংয়ের ওপর নির্ভর করে, তবুও দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও এই হার উদ্বেগজনক। "সেরা" বা "শীর্ষ" শব্দটি ব্যবহারের চেয়ে এটি আমাদের জন্য একটি "জাতীয় জরুরি অবস্থা" হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
৩. বর্তমান আইন ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০' (সংশোধিত ২০২০) বিদ্যমান রয়েছে, যেখানে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আইনের কঠোরতা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে:
* তদন্তে গাফিলতি।
* সাক্ষী সুরক্ষার অভাব।
* ডিএনএ টেস্ট বা ফরেনসিক রিপোর্টে দেরি হওয়া।
৪. উত্তরণের উপায় ও করণীয়
এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, সামাজিক জাগরণ প্রয়োজন:
পারিবারিক সচেতনতা: শিশুদের 'গুড টাচ' এবং 'ব্যাড টাচ' সম্পর্কে সচেতন করা।
দ্রুত বিচার: শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: নৈতিক শিক্ষা এবং যৌন হয়রানি বিরোধী পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা।
পরিশেষ: শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নেতিবাচক শিরোনামে দেশি বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত হওয়ার চেয়ে, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত অপরাধ দমন এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া।
রাজধানীতে ভয়াবহ আকারে বাড়ছে অজ্ঞাত লাশ!