চট্টগ্রামে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে নষ্ট ১ লাখ চামড়া!
চট্টগ্রাম থেকে আমির হোসাইন, ক্রাইম জনতা
চট্টগ্রামে সিন্ডিকেটের কারণে অন্তত ১ লাখ কুরবানি পশুর চামড়া নষ্ট হয়েছে। এগুলো বিক্রি না হওয়ায় অনেকে খাল ও নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। অনেকে মাটিতেও পুঁতে ফেলেছেন। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ-বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বেঁধে দেওয়া দরে চামড়া কেনেননি আড়তদাররা। অন্যসব বছরের মতো এবারও সিন্ডিকেট করে তারা পানির দরে চামড়া কিনেছেন। এখন তারা ঢাকার ট্যানারি মালিকদের অপেক্ষায় আছেন।
পশু সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, চট্টগ্রামে কুরবানির পশুর চাহিদা ছিল ৮ লাখের মতো। ৫ লাখের কাছাকাছি কুরবানি হয়েছে। ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৪০ পিস চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। এ হিসাবে ১ লাখের মতো চামড়া নষ্ট হয়েছে। গরুর চামড়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০টি, ছাগলের চামড়া ৫৩ হাজার ৮০০টি এবং মহিষের ১১ হাজার ৭০০টি চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। নগরীর কালুরঘাট, আতুরার ডিপো, হালিশহর, বিবিরহাটসহ নগরী ও নগরীর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় লবণ দিয়ে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।
আড়তদাররা জানান, চট্টগ্রামের ২২টি ট্যানারির প্রায় সব বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু এখন রিফ লেদার নামে একটি ট্যানারি রয়েছে। এ কারণে প্রতিবছর সংগৃহীত চামড়া নিয়ে আড়তদারদের বিপাকে পড়তে হয়। চামড়া বিক্রির জন্য পুরোপুরি নির্ভরশীল হতে হয় ঢাকার ট্যানারি মালিকদের ওপর। সংগৃহীত চামড়া ৩-৪ হাত ঘুরে আতুরার ডিপো এলাকার আড়তে আসে। কুরবানিদাতা থেকে আড়তে আসতে দাম অন্তত দুই-তিনগুণ বেড়ে যায়।
মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কুরবানি পশুর চামড়ার দাম নিয়ে নজিরবিহীন কারসাজি হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া দামের পরিবর্তে পানির দরে চামড়া কিনেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন উপজেলা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আতুরার ডিপো এলাকায় নিয়ে আসেন। উপযুক্ত দাম না পেয়ে অনেকে চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে যান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের হিসাবমতে, কয়েক হাজার পিস চামড়া তারা ডাম্পিং করেছেন।
বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আড়তদার সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকার চামড়া হাতিয়ে নিয়েছেন। মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আবদুল হামিদ যুগান্তরকে জানান, এ বছর চামড়ার আড়তদাররা ভয়াবহ কারসাজি করেছেন। ৯৫ শতাংশ মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়েছেন। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কম মূল্যে তারা চামড়া কিনেছেন। বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি মুসলিম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, এবারের কুরবানিতে ৪ লাখের কিছু চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ১ পিস চামড়াও বিক্রি হয়নি। তারা ঢাকার ট্যানারি মালিকদের অপেক্ষায় আছেন।
নওগাঁর ধামইরহাটে বাঁশঝাড় থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার!